চলতি বছরেই কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে চান ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে চলতি বছরেই বৈঠক করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আরও বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি আছেন বলেও জানান তিনি।

হোয়াইট হাউসে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংকে স্বাগত জানানোর সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভবিষ্যতে উপযুক্ত সময়ে কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষায় আছি। আমি চাই, এই বৈঠকটা এ বছরেই হোক।”

প্রসঙ্গত, গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এর ফলে মার্কিন বাজারে তাদের পণ্যের ওপর শুল্ক কিছুটা সহজ হয়। তবুও সামরিক ব্যয়, পারমাণবিক শক্তি এবং ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির মতো বিষয়গুলোতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ওই বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তা ও দুই দেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত ফোরামে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট লি। এ সফরে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা কোরিয়ান এয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্ডার দিয়েছে—বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১০৩টি বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে উত্তর কোরিয়া সঙ্গে সঙ্গে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পরবর্তীতে তাদের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া নাকি প্রমাণ করছে, ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য কোরীয় উপদ্বীপ দখল করা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ট্রাম্প সরাসরি কূটনীতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু নানা আলোচনার পরও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে কোনো চুক্তি হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এবারও তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাচ্ছেন।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট লি বৈঠকে ট্রাম্পকে বলেন, “আমি আশা করি, আপনি বিশ্বের একমাত্র বিভাজিত কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি আনতে পারবেন। যদি কিম জং উনের সঙ্গে আপনার বৈঠক সফল হয়, তাহলে আপনি ইতিহাসে শান্তির দূত হিসেবে জায়গা করে নেবেন।”

লি আরও জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া প্রতিবছর ১০ থেকে ২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এখন শুধু সেগুলো বহনের জন্য কার্যকর রিএন্ট্রি যান তৈরি করলেই তাদের অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হবে।


সাম্প্রতিক পরিস্থিতি স্পষ্ট করছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন আলোচনার চেষ্টা শুরু হলেও ঝুঁকি কমছে না। প্রশ্ন হলো—ট্রাম্পের এই বৈঠক কি সত্যিই কোরীয় উপদ্বীপে শান্তির পথ খুলে দেবে, নাকি আবারও অচলাবস্থায় আটকে যাবে?

Next News Previous News