মজানের আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ইঙ্গিত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নতুন আভাস এসেছে। রমজান শুরুর এক সপ্তাহ আগে ভোট আয়োজন হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন একজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা। তাঁর ভাষায়, “আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই, যদিও দুই-একটি দল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে—এটি তাদের কৌশল হতে পারে।”

রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রেখেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই নির্বাচন রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ হয়ে থাকবে।

নির্বাচনে ‘পিআর’ এবং ‘গণপরিষদ’-এর দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল মাঠ গরম করার জন্য এসব বক্তব্য দিচ্ছে। দেশে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “যারা এর বিপক্ষে কথা বলবে, তারাই রাজনীতি থেকে মাইনাস হয়ে যাবে। কেউ চাইলে নির্বাচনে না-ও আসতে পারে, তবে বাহানা দিয়ে বয়কট করলে ভবিষ্যৎ রাজনীতি থেকে নিজেরাই বাদ হয়ে যাবে।”

‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কিছু বিষয়কে অযৌক্তিক মনে করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বিকল্প প্রস্তাব আলোচনার সময় ঐকমত্য কমিশনে পেশ করা হবে। তাঁর ভাষায়, “সংবিধানের ওপরে কোনো সনদ গ্রহণযোগ্য নয়, আলোচনার মধ্য দিয়েই সব দল এক অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আশা করি।”

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়েও স্পষ্ট মত দেন তিনি। বিএনপি কোনো জটিলতা চায় না জানিয়ে বলেন, এই সরকার সবার ঐকমত্যে গঠিত হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলে তা পরবর্তী নির্বাচনে কার্যকর হতে পারে। ঘোষিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সম্ভাব্য জোট রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, জামায়াতের সঙ্গে এক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে যুগপৎ আন্দোলনে যারা ছিলেন, কিংবা কিছু ইসলামী ঘরানার দলের সঙ্গে জোট হতে পারে, যদিও এখনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তাঁর মতে, পূর্ববর্তী আন্দোলনের অংশীদার রাজনৈতিক শক্তিগুলোকেও আলোচনার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ জোটে দেখা যেতে পারে।

সাম্প্রতিক আপডেট

রাজনৈতিক মহলে এখনো নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্বাচন কমিশনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানের আগে নির্বাচন আয়োজন করলে অংশগ্রহণ ও ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি দুটোই বাড়তে পারে।

প্রশ্ন রইল—নির্বাচনী আমেজে সব দল কি শেষ পর্যন্ত এক মঞ্চে আসবে, নাকি ভিন্ন পথে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হবে?

Next News Previous News