অস্ট্রেলিয়া কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলি নেতার ভিসা বাতিল করল

অস্ট্রেলিয়া কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলি রাজনীতিক সিমচা রথম্যানের ভিসা বাতিল করেছে। ইসরায়েলের শাসক জোটের শরিক ‘ন্যাশনাল রেলিজিয়াস পার্টি—রেলিজিয়াস জাওনিজম’ এর এই নেতার অস্ট্রেলিয়া সফর ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তিনি দেশটির ইহুদি সংগঠন আয়োজিত কয়েকটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার কথা ছিল।

ভিসা বাতিলের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আয়োজক অস্ট্রেলীয় ইহুদি সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে। তাদের ভাষায়, “এটি একটি তীব্র ইহুদিবিদ্বেষী পদক্ষেপ।” সংগঠনটি দাবি করেছে, রথম্যানের সফরের উদ্দেশ্য ছিল অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ।

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের অবস্থান

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক সাংবাদিকদের বলেন, “আপনি যদি ঘৃণা ও বিভাজনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে অস্ট্রেলিয়ায় আসতে চান, তাহলে আমরা আপনাকে এখানে দেখতে চাই না।” তাঁর ভাষায়, “আমরা এমন একটি অস্ট্রেলিয়া চাই, যেখানে সবাই নিরাপদ অনুভব করবে।”

ভিসা আইন অনুযায়ী, মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও ভিসা বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আগামী তিন বছর দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন না। ফলে সিমচা রথম্যান অন্তত তিন বছর অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ করতে পারবেন না।

ইহুদি সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

অস্ট্রেলীয় ইহুদি সংগঠনের প্রধান নির্বাহী রবার্ট গ্রেগরি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “এই সফরের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কোনো সম্পর্ক নেই।” তিনি আরও বলেন, “সরকার অন্ধের মতো ইহুদি সম্প্রদায় ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।”

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলজুড়ে গাজা যুদ্ধবিরতির দাবিতে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট চলছে। বিভিন্ন শহরে সড়ক অবরোধ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি রাজনীতিকদের আন্তর্জাতিক সফর ও বিতর্কিত বক্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে।


প্রশ্ন হচ্ছে—অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত কি সত্যিই ঘৃণা ও বিভাজন ঠেকানোর পদক্ষেপ, নাকি ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে দেখা উচিত? আপনার মতামত কী?

Next News Previous News