“আলোচনার দ্বার খোলা থাক—জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের ডাক বিএনপি নেতৃত্বের”
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিজয় র্যালির আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উঠে এলো ঐক্যের বার্তা। রাজনৈতিক মতভেদকে পাশে রেখে জাতীয় স্বার্থে একত্র হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
তাঁর ভাষায়, “রাজনৈতিক দলের সদস্যদের বলতে চাই—বিভিন্ন ইস্যুতে মতভেদ থাকবে। এসব মতভেদ দূর করতে আমাদের আলোচনা চলবে। জাতীয় কোনো ইস্যুতে, গণতন্ত্রের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যাতে মুখ দেখাদেখি বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যে জাতীয় স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। কারণ আমি বিশ্বাস করি—ধর্ম, দর্শন, মত যার যার, রাষ্ট্র আমাদের সবার।”
গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রশ্নে দেশবাসীকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নাগরিকদের কাছে আহ্বান রাখছি—নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। দেশবাসীর কাছে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই—ফ্যাসিবাদের সময় আমরা নিরাপদ ছিলাম না। আমাদের সন্তানরা নিরাপদ ছিল না। আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। পুরো বাংলাদেশকে বর্বর বন্দিশালা বানানো হয়েছিল।”
তিনি আরও যোগ করেন, “গণতন্ত্র এবং দেশের জনগণের সামনে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক অপার সম্ভাবনা এবং সুযোগ এসেছে। চব্বিশের আন্দোলনের কারণে আসা সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক শক্তি প্রতিষ্ঠা করা গেলে, জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারলে—ভবিষ্যতে আর কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পাবে না। দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবে না। আর কোনো রক্তাক্ত চব্বিশ আমাদের দেখতে হবে না।”
আজকের বিজয় র্যালিকে ঘিরে বক্তব্যে তিনি বলেন, “পতিত ও পলাতক ফ্যাসিস্টের আমলে অন্ধকারের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। আজকের বিজয় মিছিল অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আলোর পথে যাত্রা।”
সম্প্রতি সংবাদ: রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই বিএনপি নেতারা তাদের অবস্থান আরও জোরালো করছেন। এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিও তোলা হয় (সূত্র: বিবৃতিতে সালাহউদ্দিন আহমদ)।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বার্তা কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—তা নিয়ে ভাবনার জায়গা থেকেই যাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থে সত্যিই কি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্য সম্ভব?
