গাজা ইস্যুতে আজ বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মানবিক সংকট এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আজ ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ জানিয়েছেন, এ বৈঠকে গাজার জন্য ত্রাণ সহায়তা বাড়ানো এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। সাম্প্রতিক হামলার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাত্র দু’দিন আগে গাজার নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে পাঁচজন সাংবাদিকও ছিলেন। ভয়াবহ ওই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের এই বৈঠককে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

গতকাল ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইটকোফ বলেন, “আমরা গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করার কাছাকাছি আছি। যুদ্ধ থামলে ইসরায়েলি জিম্মিদেরও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। আমি মনে করি এ যুদ্ধের মীমাংসা এ বছর শেষ হওয়ার আগেই হতে পারে।”

এর আগে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস জানিয়েছে, তারা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রস্তাবিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। তবে ইসরায়েল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্লেখ্য, এ যুদ্ধবিরতির কাঠামো নির্ধারণ করেছিলেন স্টিভ উইটকোফ নিজেই।

যদিও হামাস তাদের সম্মতির কথা প্রকাশ করেছে, উইটকোফ দাবি করেছেন, “এটা হামাসই, যারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বিলম্ব করেছে। এখন তারা বলছে রাজি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, দখলদার ইসরায়েলের সামরিক চাপে পড়ে হামাস এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নাসের হাসপাতালে হতাহতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উইটকোফ সরাসরি মন্তব্য না করে শুধু বলেন, “সব বেসামরিক মৃত্যুই দুঃখজনক।”

গাজার যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার পথ নিয়ে এই বৈঠক কতটা অগ্রগতি আনতে পারে—তা এখন আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রশ্ন থেকে যায়, আলোচনার টেবিলে বসেও কি পক্ষগুলো সত্যিই যুদ্ধের ইতি টানতে পারবে?

Next News Previous News