ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি: ‘আপনি আঙুল তোলার আগেই ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে’

আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান পারমাণবিক কার্যক্রম আবার শুরু করলে সেটা এত দ্রুত নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে যে কেউ কিছু বোঝার আগেই তা শেষ হয়ে যাবে।

গতকাল স্কটল্যান্ডে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, ‘তাদের (ইরান) এটা করা উচিত নয়। আমরা তাদের পারমাণবিক সম্ভাবনাকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি। তারা আবার শুরু করতে পারে, তবে আপনি আঙুল তোলার আগেই আমরা সেটা শেষ করে দেব। আমরা এটা আনন্দের সঙ্গেই করব—খোলাখুলিভাবে ও নির্দ্বিধায়।’

এই বক্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু। তেহরান জানিয়েছে, তারা চিকিৎসা ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন।

জুন মাসে ইরানের তিনটি বড় পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পর আলোচনা ভেঙে পড়ে। এরপর সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে আলোচনায় বসে ইরান। তবে সেখান থেকেও আশানুরূপ ফল মেলেনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি বলেছেন, ‘ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার আছে।’ তাঁর ভাষায়, ‘আমরা কখনো হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো ভাষায় সাড়া দিই না। আমাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং বৈধ।’

এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি এখান থেকে “স্বৈরশাসক” খামেনিকে স্পষ্ট করে একটি বার্তা দিতে চাই, আপনি যদি ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখেন, আমাদের লম্বা হাত আরও শক্তিশালী হয়ে আবারও তেহরান অবধি পৌঁছে যাবে। এবার ব্যক্তিগতভাবে আপনার কাছেও পৌঁছে যাবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ওপর নতুন করে যেকোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের মৌন সম্মতির প্রয়োজন হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি কূটনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করবে না। তবে আলোচনার দরজা খোলা রাখবে বলেও জানান তিনি।

প্রশ্ন থেকে যায়—এই অবস্থায় কি মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বিশ্ব? নাকি আবারো কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে?

Next News Previous News