নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোর তৎপরতা, পুশইন নিয়েও কড়া বার্তা

গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্রসহ সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচনের আগেই এসব অস্ত্র উদ্ধারের আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উপদেষ্টা।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্স পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এখনো সব অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, তবে নির্বাচনের আগে এগুলো উদ্ধার করা হবে। এ কাজে রাজনৈতিক দলগুলোকে মূল ভূমিকা রাখতে হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, সাংবাদিকরা যেন সত্য তুলে ধরেন, যাতে বিভ্রান্তি দূর হয়। “আমরা চাই নিরপেক্ষভাবে সব তথ্য আসুক। রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের জন্য মাঠে থাকবে, আর আমাদের দায়িত্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, বেশিরভাগ মামলার তদন্ত এগিয়ে চলেছে। তবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনেককে আসামি করায় কিছু বিলম্ব হচ্ছে। “নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।”

এর আগে, সিদ্ধিরগঞ্জে র‍্যাব-১১ সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে তিনি ভারত থেকে বাংলাদেশি পুশইন প্রসঙ্গে বলেন, গত এক মাসে ১৫০০ বাংলাদেশিকে সীমান্ত থেকে ঠেলে পাঠানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই সংখ্যা কিছুটা কমেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষায়, “আমাদের নাগরিকদের অবশ্যই নিতে হবে, তা ১০ কিংবা ২০ বছর পর হলেও। তবে রোহিঙ্গাদের যেভাবে পুশইন করা হচ্ছে, তা আমরা গ্রহণ করছি না, তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ভারত সরকার নিয়ম মেনে নাগরিক পাঠানোর পরিবর্তে অনেক সময় নদীর পাড়ে ও জঙ্গলে ফেলে যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” এ নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং কিছুটা সাড়া মিলেছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে মোহাম্মদপুরে আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। “তদন্ত টিম কাজ করছে। দোষীদের ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ অবহেলা করলে তাকেও শাস্তির মুখে পড়তে হবে।”

পরিদর্শনকালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বগুড়ায় বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও বিস্ফোরক সামগ্রী।

জনগণের প্রত্যাশা—নির্বাচনের আগে যেন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনো রকম অনিশ্চয়তা না থাকে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, অবৈধ অস্ত্র ও পুশইন সমস্যা মোকাবিলায় শুধু নিরাপত্তা বাহিনী নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে?

Next News Previous News