খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পাহাড়ে রণক্ষেত্র! গোলাগুলিতে হতাহতের আশঙ্কা

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার নারাইছড়ি এলাকায় দুটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

সূত্র জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-মূল) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন) — এই দুই দলের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। প্রায় তিনশ থেকে চারশ রাউন্ড গুলিবিনিময়ের খবর পাওয়া গেছে, যা পুরো এলাকা জুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

দীঘিনালা থানার ওসি জানান, “এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম, সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে জানতে পেরেছি, গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি, তবে তা এখনো নিশ্চিত নয়।”

অন্যদিকে, ইউপিডিএফ-এর এক সংগঠক অংগ্য মারমা এই ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষায়, “আমাদের কোনো অংশগ্রহণ নেই, এমন কোনো ঘটনার তথ্য আমাদের জানা নেই।”

পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে উৎকণ্ঠা বেড়েছে। এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলের দিকে নজর রাখছে বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক অতিরিক্ত তথ্য: গত কয়েক মাস ধরেই পার্বত্য এলাকায় আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে টানাপোড়েন ও সংঘাতের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের সংঘর্ষ শুধু শান্তিপ্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনও আতঙ্কের মধ্যে ফেলছে।

প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে— পাহাড়ে শান্তি ফিরবে কবে? আর সাধারণ মানুষ কি কখনো নিজেদের এলাকা নিয়ে নিরাপদ বোধ করবে?

Next News Previous News