ইসরায়েলকে ‘গণহত্যাকারী’ আখ্যা স্পেনের, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ

ফিলিস্তিনে চলমান সংকটে ইউরোপ কেবল নীরব দর্শক — এমনই অভিযোগ তুলেছে স্পেন। গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে দেশটি এবার সরাসরি গণহত্যার দায়ে ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেছে। পাশাপাশি, এই মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেছে স্পেন সরকার।

বুধবার এক ভাষণে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, “কোনো দেশ যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক নীতিকে পদদলিত করে কিংবা অনাহার ও যুদ্ধকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে একটি বৈধ রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে চায়, তবে সেই দেশ ইউরোপের অংশীদার হতে পারে না।”

তাঁর ভাষায়, “ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে যে কার্যক্রম চলছে, তা ইতিহাসে ২১শ শতকের অন্যতম অন্ধকারতম অধ্যায় হিসেবে লেখা হবে।”

সানচেজ আরও বলেন, “যেসব মর্মান্তিক ছবি আমরা প্রতিদিন দেখছি — ধ্বংসস্তূপে পরিবার খুঁজে বেড়ানো শিশু, খাদ্যসংকটে তাঁবুতে নিঃশ্বাসত্যাগ করা মানুষ — এগুলো শুধু আবেগ নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে ইউরোপের জন্য একটি স্পষ্ট আহ্বান।”

তিনি ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “যে কারণে আমরা পুতিনকে দোষারোপ করি, সেই একই অপরাধ যদি নেতানিয়াহু করেন, তবে তাকেও ছাড় দেওয়া যায় না।”

সংকটের পেছনে ভয়াবহ পরিসংখ্যান

জাতিসংঘ ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের লাগাতার অভিযানে ৫৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের উল্লেখযোগ্য অংশ নারী ও শিশু। টানা ২১ মাস ধরে চলা এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগের জন্ম দিলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই হতাশ অনেকেই।

সম্প্রতি স্পেনের আরও কিছু পদক্ষেপ:

  • ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা
  • ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি
  • গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি বাতিল

প্রশ্ন রইলো — ইউরোপ কি এবার ফিলিস্তিন ইস্যুতে স্পেনের মতো স্পষ্ট অবস্থানে যাবে? নাকি মানবিক বিপর্যয়ের ছবিগুলো শুধু প্রতিবেদনেই থেকে যাবে?

Next News Previous News