পাকিস্তান-তুরস্ক বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: লক্ষ্যমাত্রা ৫০০ কোটি ডলার

নিউজ ডেস্ক: অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও সংস্কৃতিসহ নানা ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও জোরদারের পথে এগোচ্ছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। দুই দেশ ঘোষণা করেছে—দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করার প্রত্যয় নিয়ে তারা একসাথে কাজ করবে।

ইসলামাবাদে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা উচ্চ-স্তরের কৌশলগত সহযোগিতা কাউন্সিল (এইচএলএসসিসি) এর অধীনে গঠিত ১২টি যৌথ স্থায়ী কমিটির কাজের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট।

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এইচএলএসসিসির অধিবেশনে আমরা একটি যৌথ কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিই, যা এই কমিটিগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে।”

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আরও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা খাতে অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, “পাকিস্তান এই অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হতে চায়।”

তাঁর ভাষায়, “করাচিতে তুরস্কের বিনিয়োগের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইস্তাম্বুল-তেহরান-ইসলামাবাদ রেল করিডোর পুনরায় চালুর প্রচেষ্টা চলছে।”

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, “দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিনিয়ত দৃঢ় হচ্ছে। বিমান, সমুদ্র, স্থল ও রেল—সব যোগাযোগ ব্যবস্থাই আরও শক্তিশালী করতে হবে।”

তাঁর ভাষায়, “এই সংযোগ উন্নয়নে প্রযুক্তিগত কাজ এগিয়ে চলছে এবং উভয় দেশের স্বার্থেই এটি গুরুত্বপূর্ণ।”

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট:

এই ঘোষণা এমন সময় এলো যখন বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব বাড়াতে সচেষ্ট। তুরস্ক ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে একাধিক সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং জ্বালানি ও পরিকাঠামো খাতেও তারা যৌথ বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

প্রশ্ন রইল দর্শকদের প্রতি: দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে পাকিস্তান-তুরস্কের ঘনিষ্ঠতা কী নতুন কৌশলগত সমীকরণ তৈরি করতে পারে? আপনি কী ভাবেন?

Next News Previous News