৩৬ দিনের গণঅভ্যুত্থান ও ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ’: আলোচনার কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
নিউজ ডেস্ক: দেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায় রচনা করেছে সাম্প্রতিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’। আন্দোলনকারী জনতা দাবি করছে, এই অভ্যুত্থান তাদের চোখে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’। ৫ আগস্টের সফলতার চূড়ান্ত মুহূর্তে, কথিতভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন।
আন্দোলনকারীদের মতে, শেখ হাসিনার প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় বাহিনীর মাধ্যমে নিপীড়ন চালানো হয় নিরস্ত্র জনগণের উপর। তাঁদের ভাষায়, ‘এই শাসকগোষ্ঠীর হাতে সংগঠিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দায় শেখ হাসিনার।’ নতুন প্রশাসন এখন তাঁর এবং সংশ্লিষ্ট ঘাতকদের বিচারের আওতায় আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
নতুন গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন একজন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং দলটির নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনও স্থগিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, ‘ফ্যাসিস্ট তকমা দেওয়া হলেও আওয়ামী লীগ কি দেশের রাজনীতিতে জায়গা পেতে পারে না?’
এই প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হয়েছে একাধিক পুরনো ঘটনার কথা—বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়াকে তার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, তাঁর চিকিৎসা নিয়ে সরকারের অমানবিকতা এবং তাঁর পরিবারের প্রতি নিপীড়নের অভিযোগ। তাঁর প্রতি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং রাজনৈতিক নাটকীয়তাও ফের আলোচনায় এসেছে।
আন্দোলনকারী ছাত্র ও জনতা বলছে, বিএনপির কিছু নেতা ও নেত্রী—যাঁরা এক সময় আওয়ামী বিরোধী অবস্থান থেকে এসেছেন—তাঁদের নীরবতা ও দ্বৈত ভূমিকাও এখন সমালোচনার কেন্দ্রে। বক্তব্য অনুযায়ী, “আওয়ামী লীগকে ‘পরিষ্কার’ করে বিএনপিতে নেবার প্রস্তাব আসা রাজনৈতিক চেতনার দেউলিয়াপনা।”
৩৬ দিনের অভ্যুত্থানে নিহত হয়েছে ১ হাজার ৬০০ জন, গুলিতে অন্ধ হয়েছেন ৪০০ জন, আহত হয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার, এবং অনেকেই আজীবনের জন্য পঙ্গু। অতীতের পিলখানা ট্র্যাজেডি, শাপলা চত্বর, সাত খুন, আবরার ফাহাদ, বিশ্বজিৎ কিংবা সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনীর হত্যাকাণ্ড—সবই এ সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
অনেকে বলছেন, দেশব্যাপী এই ভয়াবহতার পেছনে ‘ভারতঘেঁষা রাজনীতি’ ও অপরাধমূলক দুর্বৃত্তায়নের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ইতিহাস তুলে ধরে বলা হচ্ছে, যেই দলই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছে, তারই চরম ক্ষতি হয়েছে। এবার যেন কেউ পঞ্চমবার সেই ভুল না করে—এই হুঁশিয়ারিও উঠে এসেছে জনতার কণ্ঠে।
শেষ কথায় প্রশ্ন:
বাংলাদেশের ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে, আদৌ কি দেশের রাজনৈতিক দলগুলো আওয়ামী লীগকে ‘পুনর্বাসন’ করার পুরনো অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে? না কি আবারও ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্ত করবে?
