নির্বাচন ঠেকাতে নতুন ষড়যন্ত্র”—হুঁশিয়ারি দিয়ে ঐক্যের ডাক বিএনপি নেতার
দেশকে আবারও গভীর সংকটে ফেলতে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে—এমন মন্তব্য করে জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির এক শীর্ষস্থানীয় নেতা। তাঁর ভাষায়, “গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিকে বিভক্ত করতে পরিকল্পিতভাবে অনৈক্য সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়। অথচ এই মুহূর্তে জনগণ নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।”
শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ছাতুগাঁও বাজারে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ইউনিয়ন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি বলেন, “হাটে, মাঠে, গ্রামে, শহরে—যেখানেই যাই, সবাই জিজ্ঞেস করে, ‘নির্বাচনের খবর কী?’” যা প্রমাণ করে, জনগণ নির্বাচন চায়।
তিনি দাবি করেন, বিএনপিও সংস্কার চায় বলেই বিগত ১১ মাস ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে আসছে। তবে তাঁর অভিযোগ, “সরকারের ভেতরে ও বাইরে থাকা একটি মহল এসব সংস্কারকে জটিল করে তুলছে—যার ফলে নির্বাচন সুদূরপরাহত হচ্ছে।”
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মিটফোর্ড ও গোপালগঞ্জের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এগুলো একই সূত্রে গাঁথা কি না, তা খুঁজে বের করতে হবে।” তাঁর আশঙ্কা, “আরও ঘটনা ঘটানো হতে পারে—জনগণকে বিভ্রান্ত করতে।”
তাঁর ভাষায়, “সংস্কারের নামে এমন পদ্ধতি আলোচনায় আনা হচ্ছে যার সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে জনগণের অধিকারও হরণ করার চিন্তা করা হচ্ছে।”
তিনি শহুরে সিদ্ধান্তনির্ভর সংস্কার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বলেন, “কোট টাই পরা শহুরে কয়েকজন লোক যা বলবে, তাই যদি সংস্কার হয়—তা হতে পারে না। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার সম্ভব নয়।”
তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যদি সংস্কারের জটিলতা বাড়িয়ে বাইরে ষড়যন্ত্রকারীদের সুযোগ দেওয়া হয়, এবং নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে—তাহলে জনগণ কাউকে ছাড় দেবে না।”
জনগণকে আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলার পাশাপাশি, তিনি বলেন, “রোজার আগে নির্বাচন না হলে সব আশার আলো নিভে যেতে পারে।”
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ঘরে ঘরে বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের সালাম পৌঁছে দিয়ে ধানের শীষের প্রচারণা শুরু করতে হবে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “ধানের শীষের সরকার গঠিত হলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ, প্রতিটি পরিবারের একাংশ সাংসারিক ব্যয়, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও বেকার ভাতা চালু করা হবে।”
নবীন দলের কিছু নেতার বক্তব্যের সমালোচনায় তিনি বলেন, “বিএনপি কারও দয়ায় নয়, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে চায়। যারা ভোট ও জনগণকে ভয় পায়, তারাই বলে বিএনপিকে আনতে চায় না।”
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
প্রশ্ন রইল—সংস্কারের নামে এই ‘জটিলতা’ কি সত্যিই নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করছে, নাকি এটা কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য? মতামত দিন আপনিও।
