ফ্যাসিবাদের পতনের এক বছর পরও ভোটাধিকার ফিরে পায়নি জনগণ”—বিএনপি উপদেষ্টার অভিযোগ
নওগাঁর মান্দা থেকে: “বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করে না, বরং দেশের জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে”—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। তাঁর ভাষায়, “১৭ বছর ধরে আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়ছি। কিন্তু আজও মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পায়নি।”
গতকাল সন্ধ্যায় মান্দা উপজেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির কবলে, আর যারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে এক করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে দেশের ষড়যন্ত্রকারী।
উপদেষ্টার ভাষায়, “স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশের সব অধিকার হরণ করেছেন। আজ তিনি সরলেও তাঁর ছায়া প্রশাসন দেশের নানা স্তরে রয়ে গেছে। আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি, এদের রেখে কোনো গণতান্ত্রিক সরকার সফল হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান অস্থিরতা ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে নির্বাচনের পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “৫ আগস্ট পতনের পর, যখন জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়ে বলছে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে, তখনই তারা চায় না নির্বাচন হোক। ভোটাধিকার হরণ করে তারা আবারও ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করছে।”
সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ব্যর্থতা তুলে ধরে তাঁর মন্তব্য, “আপনারা যদি সত্যিকারের রাষ্ট্র চালাতে পারতেন, তাহলে সীমান্ত রক্ষা, অনুপ্রবেশ ঠেকানো, অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং বেকারত্ব সমস্যার সমাধান করতে পারতেন। অথচ ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম পর্যন্ত সামলাতে পারেন না।”
সম্মেলন আয়োজন ও নেতৃত্ব নির্বাচন:
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। প্রধান বক্তা ছিলেন বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, এবং বিশেষ বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এতে কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতিতে এম এ মতিনকে সভাপতি এবং শফিকুল ইসলাম বাবুল চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৪টি ইউনিয়নের ৯৯৪ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৯৩০ জন ভোট প্রদান করেন। সাংগঠনিক সম্পাদক দুটি পদে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন সামসুল আলম বাদল ও বিশ্বজিৎ সরকার।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট:
গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিয়ে বিএনপির লাগাতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো এমন এক সময়, যখন দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে চাঙা হতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পরবর্তী নির্বাচনের রূপরেখা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়নি, যা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
প্রশ্ন রইল: ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও জনঅধিকার—এসব প্রশ্নে আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন কোন দিকে এগোবে? জনগণ কি আদৌ তাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করতে পারবে?
