ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কিশোর নিহত

News Report

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে আহত এক বাংলাদেশি কিশোর মারা গেছে। সোমবার (৫ মে) সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনা সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

নিহত কিশোরের নাম আরিফ হোসেন (১৭), তিনি কসবা উপজেলার মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোরে ২০৫১ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি এলাকায় বিএসএফ গুলি চালালে আরিফ আহত হয়।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্র জানিয়েছে, আরিফ ও তার সঙ্গীরা গরু আনতে সীমান্তের শূন্য রেখার কাছাকাছি গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই সময় ভারতের আগরতলা সেক্টরের বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সকালেই তিনি মারা যান।

উদ্ধৃতি

“ঘটনাটি আমরা তদন্ত করে দেখছি। বিএসএফের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং এক পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।” — লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল হক, অধিনায়ক, বিজিবি-৬০ ব্যাটালিয়ন
“ও স্রেফ একটা হারানো গরু আনতে গিয়েছিল। আমরা ভাবতেও পারিনি, এমন একটা কারণে ওর জীবন চলে যাবে।” — আবদুল খালেক, চাচা

বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পটভূমি

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু নতুন নয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বহুবার সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে বিএসএফের গুলিতে অন্তত ৪০ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে, যাদের অনেকেই ছিলেন নিরস্ত্র।

বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে নিয়মিত পতাকা বৈঠক ও সমন্বিত টহল দেওয়ার চুক্তি থাকলেও বেসামরিক লোকজনের ওপর গুলি চালানো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বারবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

সমাপ্তি

আরিফ হোসেনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সীমান্তে আবারও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা ও অধিকারকর্মীরা সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনা প্রমাণ করে, সীমান্তে নিরীহ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি ও সময়োপযোগী।

Next News Previous News