দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলার দাবি হামাসের

News Report

হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর একটি জটিল হামলা চালানোর দাবি করেছে। সোমবার (৫ মে) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, খান ইউনিস অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

আল-কাসাম ব্রিগেডের বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের যোদ্ধারা খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটের ওপর অ্যান্টি-পার্সোনেল মিসাইল দিয়ে আক্রমণ চালায় এবং পরে কাছাকাছি থেকে মেশিনগান দিয়ে গুলি চালায়। তারা আরও দাবি করে, দুটি ইসরায়েলি ট্যাংক এবং একটি সামরিক বুলডোজারকে ইয়াসিন ১০৫ শেল দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এখনও এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, তারা জানিয়েছে যে, দক্ষিণ গাজায় তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উদ্ধৃতি

“আমাদের যোদ্ধারা খান ইউনিসে একটি ইসরায়েলি ইউনিটকে ফাঁদে ফেলে আক্রমণ চালিয়েছে। এই হামলা আমাদের প্রতিরোধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকারের অংশ।” — আবু ওবাইদা, মুখপাত্র, আল-কাসাম ব্রিগেড
“আমরা হামাসের দাবি পর্যালোচনা করছি। IDF গাজায় সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংসে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমাদের সেনাদের ওপর যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।” — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা

পটভূমি

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যখন হামাস ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে একটি হামলা চালায়, যাতে ১,২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। এর পর ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা এখনও চলমান।

এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৫২,০০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, এবং ১১৮,০০০ এর বেশি আহত হয়েছে। গাজায় মানবিক পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে, যেখানে খাদ্য, পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

সমাপ্তি

হামাসের এই সাম্প্রতিক হামলার দাবি গাজায় চলমান সংঘর্ষের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায়, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জোরালো হলেও, ময়দানে এখনও শান্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

Next News Previous News