দুদকের তদন্তে সাবেক বিসিবি সভাপতি পাপন ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৮০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ

News Report

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি এবং সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন ও তার স্ত্রী রুবানা হাসানের বিরুদ্ধে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চলমান অনুসন্ধানে এই তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নাজমুল হাসান পাপন ও তার স্ত্রীর নামে ও সম্পৃক্ততায় থাকা একাধিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করে এই সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। লেনদেনগুলো মূলত ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুদকের একজন তদন্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা একটি অনুসন্ধান শুরু করি। এতে দেখা যায়, নানা ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ব্যাখ্যাহীন বিশাল অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এ সংক্রান্ত সম্পূর্ণ প্রতিবেদন কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমান পদ্মা ব্যাংক), কয়েকটি বিদেশি রেমিট্যান্স এবং ন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল বেনিফিশিয়ারি অ্যাকাউন্ট।

উদ্ধৃতি

“আমরা যেসব তথ্য পেয়েছি তা প্রাথমিকভাবে গুরুতর মনে হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন পরবর্তী ধাপে গিয়ে প্রয়োজন হলে মামলা দায়ের করা হবে।” — মো. মাহবুব হোসেন, সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
“আমি কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। আমার ও পরিবারের সব আয়-ব্যয়ের উৎস বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ডকুমেন্টেড।” — নাজমুল হাসান পাপন, সাবেক সভাপতি, বিসিবি

পটভূমি

নাজমুল হাসান পাপন দীর্ঘদিন বিসিবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পাশাপাশি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার স্ত্রী রুবানা হাসানও একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি। অতীতে তাদের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ফার্মা ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের তথ্য জনসমক্ষে এসেছে।

দুদক এর আগেও দেশের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়েছে। তবে এ ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণ হলে এটি হবে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের একটি অন্যতম আলোচিত ঘটনা।

সমাপ্তি

দুদকের চলমান অনুসন্ধান এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক, ক্রীড়া এবং ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাজমুল হাসান পাপন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথাযথ ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে সমাজে নেতিবাচক বার্তা যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে—এটাই প্রত্যাশা করছেন সচেতন নাগরিকরা।

Next News Previous News