মেঘালয়ের জৈন্তিয়া হিলসে রাত্রিকালীন কারফিউ, সিলেট সীমান্তে বাড়ছে সতর্কতা
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের জৈন্তিয়া হিলস জেলায় রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সীমান্তবর্তী এই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জননিরাপত্তার স্বার্থে শুক্রবার রাতে কারফিউ জারি করা হয় বলে জানিয়েছে পূর্ব জৈন্তিয়া হিলসের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়। বাংলাদেশের সিলেট সীমান্তঘেঁষা এ অঞ্চলে সতর্কতা জারি করেছে বিজিবিও।
পূর্ব জৈন্তিয়া হিলস জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্বাক্ষরিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়:
“সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি সামাজিক অস্থিরতা ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। জননিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে এই কারফিউ জারি করা হয়েছে।”
কারফিউ চলাকালীন সময়ে সকল ধরনের জনসমাগম, চলাচল ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম কারফিউর আওতামুক্ত থাকবে।
সিলেট সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক বাসিন্দা এই ঘোষণা শুনে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান:
“আমাদের অনেক আত্মীয় মেঘালয়ের ওই এলাকায় থাকেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে আমরা উদ্বিগ্ন। সীমান্তে যেন উত্তেজনা না বাড়ে, সে বিষয়ে উভয় দেশের কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।”
বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মেঘালয়ের পূর্ব জৈন্তিয়া হিলস এলাকা বাংলাদেশের সিলেট সীমান্তসংলগ্ন। এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু নিরাপত্তা ও চোরাচালান-সংশ্লিষ্ট সমস্যা বিদ্যমান। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনায় কারফিউ জারি করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া পদক্ষেপ হলেও সীমান্তঘেঁষা অঞ্চল হওয়ায় এর প্রভাব দুই দেশের লোকজনের ওপর পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে উভয় দেশের সমন্বয় জরুরি।
ভারতীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জনগণকে শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কারফিউ কতদিন চলবে তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরবর্তীতে জানানো হবে।
