আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ, সাইনবোর্ড এলাকায় তীব্র যানজট

সংবাদ প্রতিবেদন

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্র-জনতা। রাত ৯টার পর থেকে তারা মিছিল ও স্লোগানে উত্তাল হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিলে উভয়মুখী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় এলাকার বিভিন্ন রুটে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্ররা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সাইনবোর্ড এলাকায় জড়ো হয়। তারা “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করো”, “গণহত্যার বিচার চাই” ইত্যাদি স্লোগান দিতে দিতে মহাসড়কের কেন্দ্রস্থলে বসে পড়ে এবং যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে আটকে দেয়।

“আওয়ামী লীগ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সাধারণ মানুষের ওপর যে দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তা গণহত্যার শামিল। আমরা এর বিচার চাই। একই সঙ্গে এই ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধের দাবিতে রাজপথে নেমেছি।”

—বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের একজন সংগঠক তামজিদ হোসেন।

এই অবরোধের ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী অসংখ্য বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহন আটকে পড়ে। যাত্রীরা দীর্ঘ সময় আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. গোলাম মোস্তফা বলেন:

“বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনে বিকল্প পথে যান চলাচলের ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং কোনো ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্দোলনের পটভূমিতে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে একদলীয় শাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের বিষয়ে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত সহিংস ঘটনার পর থেকেই ছাত্র-যুবকদের একটি অংশ এই রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাংবিধানিক কাঠামোতে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা কঠিন হলেও সামাজিক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এ আন্দোলন প্রভাব ফেলতে পারে।

রাত ১১টার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও বড় পরিসরে আন্দোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে দেখা গেছে।

Next News Previous News