ভারতের ধর্মীয় স্থানে হামলার ষড়যন্ত্রে পাকিস্তানের জড়িত থাকার অভিযোগ দিল্লির
ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে পরিকল্পিত হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান—এমন গুরুতর অভিযোগ এনেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। বিকেলে দিল্লির সাউথ ব্লক থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইসলামাবাদ সংকট সৃষ্টির সুপরিকল্পিত ছক আঁকছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে মিশ্রির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সেনাবাহিনীর কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। তারা পাকিস্তান-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য তুলে ধরেন এবং সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে অবহিত করেন।
“আমাদের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তান থেকে আসা কিছু চক্র ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানকে টার্গেট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ধরনের তৎপরতা আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি,”
—বলেন পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।
ভারতের সেনাবাহিনীর কর্নেল সোফিয়া কুরেশি জানান, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এসেছে।
“পাকিস্তানি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নির্দিষ্ট ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়াতে চায় বলে আমাদের তথ্য রয়েছে। আমরা তা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রস্তুত,”
—বলেন তিনি।
এদিকে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং জানান, আকাশপথে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং হুমকি মোকাবেলায় সবধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। কাশ্মীর ইস্যু, সীমান্ত সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলে আসছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর থেকে ভারত পাকিস্তানের প্রতি কঠোর মনোভাব গ্রহণ করে।
সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান—যেমন অযোধ্যা, বারাণসী এবং অমৃতসরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক নজর রাখছে যেন কোনো ধরনের সহিংসতা ছড়িয়ে না পড়ে।
দিল্লির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় স্থানে হামলার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসলামাবাদ এখনও এই অভিযোগে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযোগ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও খারাপ করতে পারে। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই নজর রাখার বিষয়।
