বিলিয়ন ডলারের তহবিল আটকে ট্রাম্পের জন্য নতুন সংকট
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নতুন এক আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ সাময়িকভাবে স্থগিত করে দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। ফলে বহুল আলোচিত এই তহবিলের কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ফেডারেল আদালত সম্প্রতি আদেশ দিয়ে তহবিলটির অর্থ বিতরণ এবং পরিচালনাসংক্রান্ত সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। আদালত পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনকে এ বিষয়ে আর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। 0
কী এই বিতর্কিত তহবিল?
ট্রাম্প প্রশাসন ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ নামে ১.৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত, মামলা বা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করবেন, তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য এই তহবিল গঠন করা হয়। 1
এই তহবিলের অর্থায়ন আসে ট্রাম্পের কর-তথ্য ফাঁস সংক্রান্ত মামলার একটি সমঝোতা চুক্তি থেকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি স্বাধীন কমিশন আবেদন যাচাই করে ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। 2
কেন আপত্তি উঠেছে?
তহবিল ঘোষণার পর থেকেই এটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণের স্পষ্ট মানদণ্ড নেই এবং রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের সমর্থকদের সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এমনকি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন আইনপ্রণেতাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলায় জড়িত ব্যক্তিরাও ভবিষ্যতে এই তহবিল থেকে অর্থ পেতে পারেন—এমন আশঙ্কা রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। 3
আদালতের হস্তক্ষেপ
মামলাকারীদের দাবি, তহবিলটি পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি ও জবাবদিহিতা কাঠামো নেই। এ অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারক লিওনি ব্রিঙ্কেমা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, তহবিলে অর্থ স্থানান্তর, দাবি গ্রহণ কিংবা অর্থ বিতরণের কোনো কার্যক্রম আপাতত চালানো যাবে না। 4
আগামী শুনানিতে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে এই নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকবে কি না। 5
রাজনৈতিক চাপের মুখে ট্রাম্প
আইনি বাধার পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, প্রশাসনের ভেতরেও তহবিলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে পুনর্বিবেচনা চলছে। বিচারিক জটিলতা এবং দ্বিদলীয় সমালোচনার কারণে হোয়াইট হাউস প্রকল্পটি থেকে সরে আসতে পারে বলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। 6
বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি শুধু একটি আইনি লড়াই নয়, বরং রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতারও পরীক্ষা। তহবিলটি নিয়ে চলমান বিতর্ক আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তহবিলটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তবে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনকে এই বিতর্কের চাপ সামলাতে হবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
Source: Based on reporting from Reuters, Associated Press, The Washington Post, PBS NewsHour and Axios.
```7