রাজপথে রাজনৈতিক দল, সতর্কবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজপথে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি, সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য নাশকতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলও নিজ নিজ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

যদিও বিএনপি আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি, দলীয় সূত্র জানিয়েছে যে সম্ভাব্য উসকানি বা বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে থাকবেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির প্রতিবাদে মঙ্গলবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌরসভা পর্যায়ে এই কর্মসূচি পালিত হবে।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর বিজয়নগরে সমাবেশের আয়োজন করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, তাদের কর্মসূচি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার দাবিতে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একই দাবিতে সারাদেশের জেলা ও মহানগরগুলোতে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। দলটির নেতারা আওয়ামী লীগের কথিত ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর এলাকা এবং ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাসদস্যরা ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু কর্মকাণ্ড সরকারের নজরে এসেছে, যা জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতেই সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

Next News Previous News