চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

চীন সফরে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়, জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা বাংলাদেশের চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও গভীর করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে কূটনৈতিক ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান বেইজিং সফরকে ঘিরে এ বিষয়ে আলোচনা আরও গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী আগস্টের মধ্যেই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানা গেছে। সম্প্রতি চীনের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন করেছে। সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে ক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। সরকারি সূত্র বলছে, এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃহত্তর কৌশলগত সম্পর্কের অংশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করার ঘোষণা আসতে পারে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্ব পাচ্ছে তিস্তা নদী উন্নয়ন প্রকল্প। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি, তবে যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া মোংলা বন্দরের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্পেও চীনের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী মোংলায় প্রায় ১১০ একর জমিতে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে, যেখানে চীনা বিনিয়োগকারীরা শিল্প স্থাপনের সুযোগ পাবেন। এর আগে চট্টগ্রামে একটি বিশেষায়িত চীনা শিল্পপার্ক স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেইজিং। সরকারের মতে, নতুন শিল্প ও বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। চীনা উৎপাদন শিল্প বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বিপুলসংখ্যক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের এই অগ্রগতি আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারত বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নের নীতি অব্যাহত থাকবে।
Next News Previous News