সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির এমপি

জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। সোমবার (২২ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি করেন।

ঝালকাঠি-১ আসনের এই সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে কোনো দলের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী কোনো রাজনৈতিক শক্তির দেশের রাজনীতিতে থাকার অধিকার থাকা উচিত নয়।

সংসদে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার দাবি

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কঠোরভাবে মোকাবিলার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হওয়া দরকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ধর্মের নামে রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা

বক্তব্যে বিএনপির এই সংসদ সদস্য ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে রাজনীতি করার বিষয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, শুধু নামের সঙ্গে ধর্মীয় শব্দ যুক্ত থাকলেই কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে জনগণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমাজে বিতর্ক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পুরোনো বক্তব্য ঘিরে প্রসঙ্গ

সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে ঝালকাঠি-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ফয়জুল হকের একটি নির্বাচনী বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। ওই বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলে জামায়াতের পক্ষ থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ওই প্রার্থীকে ঘিরে একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় আলোচনায় আসে। পরে দলীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া

সংসদে এমন বক্তব্যের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধ, ধর্ম ও রাষ্ট্রীয় রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে নানা মত দিয়ে আসছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়টি সাধারণত আইন, সংবিধান এবং রাষ্ট্রীয় নীতিমালার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

শেষ কথা

জাতীয় সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্যের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও রাজনৈতিক বিতর্ক ও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Source attribution: Source: Based on reporting from জাতীয় সংসদ বিষয়ক সংবাদ প্রতিবেদন

Next News Previous News