হরমুজে ইরানের ড্রোন হামলা, আটকে পড়া নাবিক উদ্ধারের অভিযান স্থগিত

হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন হামলা

হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন হামলা, শান্তি চুক্তির পরও নতুন উত্তেজনা

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার পরও হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। হামলার পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা হাজারো নাবিক ও শতাধিক জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার জাতিসংঘের উদ্ধার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, জাহাজটিতে একটি ইরানি ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) অনুমোদিত রুট ছাড়া অন্য কোনো পথে জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছিল।

যুক্তরাজ্যের ইউকেএমটিও জানিয়েছে, একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ কক্ষে আঘাত হানে। এতে জাহাজের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হামলার পর আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) পারস্য উপসাগরে পরিচালিত উদ্ধার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। সংস্থাটির মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গো বলেন, নাবিকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান বন্ধ থাকবে।

সাম্প্রতিক সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। তবে নতুন হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইরান-সমর্থিত একটি সংস্থা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, অননুমোদিত রুটে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তার দায় তারা নেবে না।

এদিকে, হামলার প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ ডলারে পৌঁছেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারের জন্য কোনো দেশ কর বা শুল্ক আরোপ করতে পারে না। তিনি হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ ও শুল্কমুক্ত নৌচলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কাও বাড়িয়েছে।

Next News Previous News