মশা নিধন শিখতে ফ্লোরিডা যাওয়ার দরকার নেই, ডোবার পাশে বসলেই উপায় বের হবে

মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে চেয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তা। তবে সেই সফরের অনুমোদন দেয়নি সরকার। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মশা নিধনের পদ্ধতি জানতে বা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই; দেশের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস এলএলসির অর্থায়নে চসিকের একটি প্রতিনিধিদলের ফ্লোরিডা ও শিকাগো সফরের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পর্যালোচনা শেষে সেই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়নি।

কারা ছিলেন প্রস্তাবিত প্রতিনিধিদলে?

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সফরে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ছাড়াও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির চৌধুরী এবং ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন কর্মকর্তাকেও সফরসঙ্গী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ছিল।

প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সফরের অনুমোদন না পাওয়ায় পরিকল্পনাটি আর এগোয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে আলোচনার জন্ম

সফর প্রস্তাবের বিষয়ে দেওয়া নোটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেন, “মশকনিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই। দেশেই সন্ধ্যার পর যেকোনো ডোবার পাশে দুই-তিন ঘণ্টা অবস্থান করলেই মশকনিধনের অনেক উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কেউ এটিকে ব্যয় সাশ্রয় ও বাস্তবমুখী প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

মশা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগরীতে মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিটিআই (Bacillus thuringiensis israelensis) প্রযুক্তিভিত্তিক ওষুধ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োগ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ প্রয়োগ নয়, বরং পানি জমে থাকার স্থান অপসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের বড় শহরগুলোতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ একটি বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কারণে মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বছরজুড়ে নানা উদ্যোগ নিতে হয়।

এ কারণে মশা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় বাস্তবতার সমন্বয় ঘটানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সামনের পথ

যুক্তরাষ্ট্র সফরের অনুমোদন না মিললেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে।


Source: Based on reporting from Prothom Alo and information provided by the Prime Minister’s Press Wing and Chattogram City Corporation.

Next News Previous News