বাংলাদেশি পর্যটকের অপেক্ষায় কলকাতা, ভিসা চালুর ঘোষণায় ব্যবসায়ীদের স্বস্তি

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণায় নতুন আশার আলো দেখছেন কলকাতার হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। প্রায় দুই বছর ধরে পর্যটক সংকটে ভুগতে থাকা শহরটির পর্যটননির্ভর ব্যবসা খাত আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশিদের জন্য পর্যায়ক্রমে টুরিস্ট ভিসা স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেন। এর পরপরই কলকাতার ব্যবসায়িক মহলে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিউমার্কেট ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে বিস্তৃত ব্যবসায়িক অবকাঠামো।

বাংলাদেশি পর্যটকদের কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অর্থনীতি

কলকাতার নিউমার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, রফি আহমেদ কিদোয়াই স্ট্রিট এবং পার্ক স্ট্রিট এলাকায় বাংলাদেশি পর্যটকদের লক্ষ্য করে গড়ে উঠেছে এক হাজারেরও বেশি ছোট-বড় আবাসিক হোটেল। এসব এলাকার বহু ব্যবসা সরাসরি বাংলাদেশি ক্রেতা ও ভ্রমণকারীদের ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ভিসা সীমিত হয়ে যাওয়ার পর থেকে হোটেলের কক্ষ ফাঁকা পড়ে ছিল, রেস্তোরাঁয় ক্রেতা কমে গিয়েছিল এবং পরিবহন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। ফলে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়ে।

এখন ভিসা চালুর ঘোষণার পর আবার বুকিং বাড়ার প্রত্যাশা করছেন হোটেল মালিকরা। তাদের বিশ্বাস, মধ্যবিত্ত বাংলাদেশি পর্যটকরাই কলকাতার পর্যটন অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তিগুলোর একটি।

চিকিৎসা, কেনাকাটা ও পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

বাংলাদেশি নাগরিকরা শুধু পর্যটন নয়, চিকিৎসা, শিক্ষা, কেনাকাটা এবং ব্যবসায়িক কাজেও নিয়মিত ভারত সফর করে থাকেন। বিশেষ করে কলকাতার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি যান।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে চিকিৎসা ভ্রমণ, শপিং ট্যুর এবং পারিবারিক ভ্রমণও বাড়বে। এর ফলে শুধু হোটেল নয়, পরিবহন, রেস্তোরাঁ, শপিং মল ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন।

পরিসংখ্যানে বাংলাদেশিদের গুরুত্ব

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতে যাওয়া বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশিরা শীর্ষে ছিলেন। ওই বছর প্রায় ২২ লাখ বাংলাদেশি ভারত ভ্রমণ করেন, যা একটি রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে ২০২৪ সাল থেকে এই সংখ্যা কমতে শুরু করে। ২০২৫ সালে তা নেমে আসে প্রায় সাড়ে ৪ লাখে। পর্যটক প্রবাহে এই বড় ধরনের পতনের কারণে কলকাতার বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়ে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের ফিরে আসা শুধু একটি শহরের জন্য নয়, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।

দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, পর্যটন খাত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনগণভিত্তিক সংযোগ। ভিসা সহজীকরণ দুই দেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককেও আরও শক্তিশালী করতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে চিকিৎসা, শিক্ষা ও অবকাশযাপনের উদ্দেশ্যে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়লে উভয় দেশের সেবা খাত উপকৃত হবে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং পর্যটননির্ভর শহরগুলোর অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় এখন কলকাতার ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশি পর্যটকদের পদচারণায় আবারও প্রাণ ফিরে পাবে শহরটির বহু পরিচিত বাণিজ্যিক এলাকা।

Source: Based on reporting from Somoy News and statements from local business stakeholders in Kolkata.

Next News Previous News