বাধ্য হয়েই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী
দেশের জ্বালানি বাজারে নতুন করে মূল্য সমন্বয়ের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে এলে দেশীয় বাজারেও দ্রুত মূল্য হ্রাস করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার বাধ্য হয়েই কিছু অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, তবে জনগণের ওপর চাপ কমানোর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়েছে।
কেন বাড়ানো হলো জ্বালানির দাম?
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বয় করা হয়। তবে মে মাসে নতুন কোনো সমন্বয় করা হয়নি, কারণ তার আগে এপ্রিল মাসে মূল্য পরিবর্তন করা হয়েছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেছে যেন সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। বিশেষ করে ডিজেলের ক্ষেত্রে সরকার বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে আসছে। দেশের মোট জ্বালানি তেল ব্যবহারের প্রায় ৬৬ শতাংশই ডিজেল হওয়ায় এর মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষি, পরিবহন এবং পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকার কারণে ডিজেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়।
কোন কোন জ্বালানির দাম বেড়েছে?
রোববার রাতে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ভোক্তা পর্যায়ে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
- অকটেন: ১৪০ টাকা থেকে ১৪৫ টাকা
- পেট্রোল: ১৩৫ টাকা থেকে ১৪০ টাকা
- কেরোসিন: ১৩০ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা
- ডিজেল: অপরিবর্তিত, ১১৫ টাকা
সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই সমন্বয় প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব
বিশ্ব জ্বালানি বাজার বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অস্থির অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে সংঘাত এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশকেও বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। সরকার শেষ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে, যদিও এটি জনপ্রিয় কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
দাম কমার সম্ভাবনা নিয়ে কী বলছে সরকার?
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার আশাবাদী যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে দেশীয় বাজারেও দ্রুত মূল্য সমন্বয় করা হবে।
তিনি স্বীকার করেন যে অতীতে অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশীয় বাজারে সেই হারে মূল্য হ্রাস করা হয়নি বলে জনগণের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাধারণ মানুষের উদ্বেগ
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, তবুও অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম বাড়ায় বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে জাতীয় বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক তেলের দামের গতিপ্রকৃতি আগামী সপ্তাহগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ এবং সরকারি মূল্য সমন্বয় সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
