হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলা, আটকে পড়া হাজারো নাবিকের উদ্ধার অভিযান স্থগিত
হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন হামলার পর উদ্ধার অভিযান স্থগিত
হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এ ঘটনার পর পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলো থেকে হাজার হাজার নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার জাতিসংঘের উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সিএনএনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এসব জাহাজ ও নাবিকরা হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছেন। মার্কিন ওই কর্মকর্তা হামলার বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি। ইরানও এখন পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, একটি পণ্যবাহী জাহাজের ডান দিকে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা বস্তু আঘাত করেছে। এতে জাহাজের ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
এলাকাটিতে চলাচলরত সব জাহাজকে সতর্কভাবে চলাচল করতে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি হওয়া চুক্তির পর পারস্য উপসাগর থেকে ১১ হাজারেরও বেশি নাবিক সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু হামলার ঘটনার পর পুরো অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।
আইএমও মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ বলেন, নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। পরিস্থিতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
ইরানের পারস্য উপসাগরীয় সমুদ্রপথ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, অননুমোদিত রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তার দায় তারা নেবে না। এসব জাহাজের সম্পূর্ণ দায়িত্ব মালিক, অপারেটর ও ক্যাপ্টেনের ওপর থাকবে।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলোচনা চলছে। এ অবস্থায় নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
