বৈরুতে হামলা হলে ফের ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের ওপর হামলা হলে তেহরান নীরব থাকবে না। তার মতে, বৈরুতকে লক্ষ্য করে যেকোনো হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত উসকে দিতে পারে এবং পরিস্থিতি আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
বুধবার (৩ জুন) লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। আরাঘচি বলেন, তেহরান, ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের মধ্যকার বিরোধের স্থায়ী সমাধান তখনই সম্ভব, যখন লেবাননের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ হবে।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং স্থায়ী শান্তির জন্য লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহার প্রয়োজন।
ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তি
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পর ইসরাইল ও লেবানন শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রধান শর্ত হলো ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীকে সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে।
চুক্তির অংশ হিসেবে কিছু ‘পাইলট জোন’ প্রতিষ্ঠার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। এসব এলাকায় শুধুমাত্র লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে এবং কোনো অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না।
হিজবুল্লাহর অবস্থান নিয়ে সংশয়
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, হিজবুল্লাহ এই চুক্তি পুরোপুরি মেনে নাও নিতে পারে। সংগঠনটি অতীতে একাধিকবার জানিয়েছে যে, তারা ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্বীকৃতি দেয় না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতা এবং লেবাননে শর্তহীন যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারে।
ইসরাইলের সতর্কবার্তা
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ এই চুক্তিকে কূটনৈতিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও যদি হিজবুল্লাহ ইসরাইলি জনপদে হামলা চালায়, তাহলে ইসরাইলি বাহিনী বৈরুতকে লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
কাৎজ আরও জানান, দক্ষিণ লেবাননের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং তারা সশস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযান চালিয়ে যাবে।
