ভারত বরাবরই মুসলমানদের বিরুদ্ধে: এটিএম আজহার
বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি প্রতিবেশী ভারতের বিভিন্ন নীতি এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেছেন।
রোববার রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ভারত প্রসঙ্গে সমালোচনা
বক্তব্যে এটিএম আজহারুল ইসলাম দাবি করেন, ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের কথা বললেও বাস্তব পরিস্থিতিতে মুসলিম সম্প্রদায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কোরবানি পালনকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক ও প্রতিবন্ধকতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনা মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত এবং দেশের জনগণকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তার মতে, প্রতিবেশী দেশের কিছু নীতি ও পদক্ষেপ অনেক সময় বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না।
রাজনৈতিক সংস্কার ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গ
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতের এই নেতা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তার দলের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কার এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তনের প্রশ্নে তার দল শুরু থেকেই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
এটিএম আজহারের ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদে থাকা জামায়াতের সদস্যরা ঘোষিত সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আন্তরিকতা এবং কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার আহ্বানও জানান তিনি।
আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
বক্তব্যে এটিএম আজহার বলেন, সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না দেখা গেলে তার দল রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনের পথ বেছে নিতে পারে। তবে তিনি আন্দোলনের ধরন বা সম্ভাব্য কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংস্কার, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে বিভিন্ন দলের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে এসব ইস্যু জাতীয় রাজনীতিতে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।
কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান
অনুষ্ঠানে তিনি একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জনগণের কল্যাণ ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সব দলের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি।
এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জনসেবামূলক কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতীয় স্বার্থ, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মতো বিষয়গুলো আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
