বগুড়ায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

বগুড়ার কাহালু উপজেলায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন তরুণ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের বারোমাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্রুতগতির দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন নওগাঁ জেলার খাস নওগাঁ এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে মো. রাহিম (২১), চকদেব নুনিয়াপট্টি এলাকার ইউসুফের ছেলে অপূর্ব (১৮) এবং একই এলাকার সুরুজের ছেলে প্রেম (২০)। তারা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ঘটনাস্থলেই মৃত্যু

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে বারোমাইল এলাকায় দুটি মোটরসাইকেল বিপরীত দিক থেকে আসার সময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের পর সড়কে ছিটকে পড়ে যান আরোহীরা। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করলেও তিনজনকেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে কাহালু ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। কাহালু ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর সবুজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যায় এবং সেখানে তিনজনের মরদেহ দেখতে পায়।

পুলিশের তদন্ত শুরু

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাহালু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ব্রজেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

বীরকেদার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই তিন তরুণ মারা যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বাড়ছে

সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো, হেলমেট ব্যবহার না করা এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে।

ঈদকে সামনে রেখে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এ সময়ে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।

Source: Based on reporting from local correspondents and fire service officials

Next News Previous News