শহীদ জিয়ার ঘোষণার মাধ্যমেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সংঘটিত হয়: দুলু

নাটোরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, জাতীয় রাজনীতি এবং জিয়া পরিবারের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

রোববার দুপুরে নাটোর শহরের আলাইপুরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ত্রাণ তহবিল থেকে মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ১৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৫০ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বক্তব্য

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে জনগণের অংশগ্রহণ আরও বেগবান হয়।

তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গবেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা, নেতৃত্ব এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও একাডেমিক পর্যায়ে আলোচনা ও বিতর্ক বিদ্যমান।

অনুদান পেল ১৬টি প্রতিষ্ঠান

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্থিক সহায়তা বিতরণ। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মসজিদ, মন্দির এবং জনকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত মোট ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ লাখ টাকার অনুদান দেওয়া হয়।

স্থানীয় নেতারা বলেন, এসব অনুদান প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক কার্যক্রম এবং জনসেবামূলক কাজে ব্যয় করা হবে।

জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক ভূমিকার উল্লেখ

বক্তব্যে দুলু দেশের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে জিয়া পরিবারের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তাদের অবস্থান সবসময় জনগণের পক্ষে ছিল বলে বিএনপি বিশ্বাস করে।

তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

নেতাদের অংশগ্রহণ

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম আফতাব, মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন, নাটোর পৌরসভার সাবেক মেয়র এমদাদুল হক আল মামুন, কাজী শাহ আলম, নাটোর জজ কোর্টের পিপি রুহুল আমিন তালুকদার টগর, জেলা বিএনপির সদস্য নাসিম উদ্দিন নাসিম, জেলা যুবদলের সভাপতি এ এইচ তালুকদার ডালিম, সদর থানা বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাস্টার এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর সামাজিক ও মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের উপকারে আসতে পারে, বিশেষ করে ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের সহায়তা ভূমিকা রাখে।

নাটোরের এই কর্মসূচিও স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সহযোগিতা ও জনসম্পৃক্ততার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


সূত্র: যুগান্তরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

Next News Previous News