ওয়াশিংটনে রাসায়নিক ট্যাংক বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ১১
ওয়াশিংটনে রাসায়নিক ট্যাংক দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ১১, উদ্ধার হলো নিখোঁজদের মরদেহ
যুক্তরাষ্ট্রের Washington অঙ্গরাজ্যে একটি কাগজ কারখানায় ভয়াবহ রাসায়নিক ট্যাংক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে পৌঁছেছে। কয়েকদিনের উদ্ধার অভিযানের পর নিখোঁজ থাকা নয়জন কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে নিহতের মোট সংখ্যা ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। 1
দুর্ঘটনাটি ঘটে ওয়াশিংটনের Longview শহরে অবস্থিত Nippon Dynawave Packaging কারখানায়। সেখানে “হোয়াইট লিকার” নামে পরিচিত একটি রাসায়নিকভর্তি বিশাল ট্যাংক হঠাৎ ভেতরের দিকে ধসে পড়ে বা ইমপ্লোড করে। এই রাসায়নিক কাগজের মণ্ড (pulp) তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয় এবং এতে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড ও সোডিয়াম সালফাইডের মতো অত্যন্ত ক্ষতিকর উপাদান থাকে। 4
কীভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা?
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্যাংকটিতে প্রায় ৯ লাখ গ্যালন রাসায়নিক দ্রবণ সংরক্ষিত ছিল। দুর্ঘটনার সময় ট্যাংকটি ধসে পড়ে এবং বিপুল পরিমাণ ক্ষয়কারী রাসায়নিক চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং একাধিক কর্মী আটকা পড়েন। 5
প্রথমে দুইজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল। পরে কয়েকদিন ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে, ড্রোন ব্যবহার করে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করে নিখোঁজদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 6
উদ্ধার অভিযানে বড় চ্যালেঞ্জ
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ট্যাংকের অবশিষ্ট অংশ আরও ধসে পড়ার আশঙ্কা এবং রাসায়নিক দূষণের কারণে উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে পরিচালনা করতে হয়েছে। 7
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে অনুসন্ধান চালাতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল এবং ড্রোন প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে। 8
পরিবেশগত উদ্বেগও তৈরি হয়েছে
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর কিছু রাসায়নিক কাছের Columbia River নদীতে পৌঁছেছে। তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয় বায়ুর মান বা পানীয় জলের ওপর কোনো গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। 10
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দূষণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আছে কি না তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। 11
তদন্ত শুরু
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও তদন্ত সংস্থাগুলো ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। ট্যাংকের কাঠামোগত ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যা বা অন্য কোনো কারিগরি কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 12
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বড় শিল্প দুর্ঘটনাগুলোর একটি
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর মতে, এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে কারখানার কর্মীরাই ছিলেন এবং কয়েকজন আহতও হয়েছেন। 13
বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্ঘটনা শিল্প নিরাপত্তা, রাসায়নিক সংরক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে।
বাংলাদেশসহ শিল্পায়নশীল দেশগুলোর জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা, যেখানে বড় শিল্প কারখানাগুলোতে নিরাপত্তা মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
উপসংহার
ওয়াশিংটনের রাসায়নিক ট্যাংক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১১ জনে পৌঁছানো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তদন্তকারীরা এখন দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, আর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
