সাইক্লোন শেল্টারের রড চুরি, বিএনপির দুই কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৩
সাইক্লোন শেল্টারের প্রায় দুই টন রড চুরি, গৌরনদীতে গ্রেপ্তার ৩
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দিয়াশুর বাংলাবাজার এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সাইক্লোন শেল্টার থেকে প্রায় দুই টন রড চুরির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে অভিযান চালিয়ে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়, পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি অবকাঠামো নির্মাণসামগ্রী চুরির এই ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার দিয়াশুর বাংলাবাজার এলাকায় সরকারি বরাদ্দে একটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণকাজ চলছিল। সম্প্রতি ওই প্রকল্প থেকে প্রায় দুই টন রড চুরি হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। বিষয়টি জানার পর ঠিকাদার আলাউদ্দিন ভূঁইয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর গৌরনদী মডেল থানা তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে দক্ষিণ দিয়াশুর গ্রামের সুমন সরদার ও ইব্রাহীম চৌকিদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও একজন গ্রেপ্তার
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মজিবর রহমান নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তিনজনকেই আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুজন স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী। তবে পুলিশ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পরিচয়কে তদন্তের মূল বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেনি।
তদন্তে আরও নাম
গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম সামনে এসেছে। তাদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকারি প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী চুরির মতো ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় গুরুত্ব
উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় সাইক্লোন শেল্টার সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তাই নির্মাণসামগ্রী চুরির ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটাতে পারে এবং দুর্যোগকালে জনগণের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
এখন নজর থাকবে তদন্তে আরও কারও নাম আসে কি না এবং চুরি হওয়া রড উদ্ধার করা সম্ভব হয় কি না।
Source: Based on reporting from local police, contractor complaint and Barishal district sources.
