রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ২৩ হাজার ৮৬৫ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের ২৩ হাজার ৮৬৫ মামলা প্রত্যাহার, সংসদে জানালেন আইনমন্ত্রী

রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলাগুলোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, সারা দেশে এ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮৬৫টি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সরকারি দলের সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন (ঢাকা-১৮) এর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা আরও যেসব মামলা রয়েছে, সেগুলোও যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

বাকি মামলার যাচাই চলছে

আইনমন্ত্রী বলেন, অবশিষ্ট মামলাগুলোর প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা এবং মামলার আইনি ভিত্তি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা হয়রানির অভিযোগ রয়েছে এমন মামলাগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতের মাধ্যমে খালাস পেলে এবং নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে আইন অনুযায়ী মর্যাদার সঙ্গে আচরণ করা তার সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার।

পুরোনো ও বিতর্কিত মামলার উদাহরণ

মন্ত্রী সংসদে বলেন, অতীতে এমন বহু মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেগুলোর অনেকগুলোকে এখন অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ২০ বছর আগে মারা গেছেন এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছিল

এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিক্ষক এবং রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধেও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের উদাহরণ পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে এবং সে অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আবেদন করার আহ্বান

আইনমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা দফতরে আবেদন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পাঠালে মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, সব বিষয় সরাসরি আইন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নয়; সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরগুলোর যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ।

জনগণের জন্য তাৎপর্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন বিতর্কিত মামলাগুলোর নিষ্পত্তি রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

এখন নজর থাকবে বাকি মামলাগুলোর যাচাই ও প্রত্যাহার প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয় তার দিকে।

Source: Based on reporting from Naya Diganta Online and parliamentary proceedings.

Next News Previous News