প্রধান শিক্ষিকাকে লাথি মারা সেই আ.লীগ নেতা সুজন গ্রেপ্তার
প্রধান শিক্ষিকাকে লাথি মারার অভিযোগে আ.লীগ নেতা সুজন গ্রেপ্তার
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও লাথি মারার অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম সুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। 1
অভিযুক্তের পরিচয়
গ্রেপ্তার হওয়া সুজন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি অতীতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িত ছিলেন।
যেভাবে ঘটেছিল হামলার ঘটনা
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ সকালে সুজন ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াখোলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি প্রথমে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন এবং পরে প্রধান শিক্ষিকা মোসা. হাসিনা ইসলাম-এর কক্ষে ঢুকে তার ওপর হামলা চালান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি প্রধান শিক্ষিকাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং লাথি মারেন।
ঘটনার পরপরই বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
মামলা দায়ের
পরদিন ৩০ মার্চ ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় সুজনসহ আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য গুরুত্ব সহকারে যাচাই করা হচ্ছে।
পূর্বের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত সুজনের বিরুদ্ধে এর আগেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পদ গ্রহণ এবং ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। তিনি পূর্বে একবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন বলে জানা যায়। 2
এলাকায় প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। অনেকে দোষীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
Source: Based on reporting from local police, district correspondents and national media reports
