সংসদে পে-স্কেল নিয়ে প্রশ্ন হাসনাতের, যা বললেন প্রতিমন্ত্রী
সংসদে পে-স্কেল নিয়ে প্রশ্ন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনায় পে কমিশন
জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধি না হওয়া এবং নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। বুধবার সংসদের অধিবেশনে তিনি বলেন, ২০১৫ সালের পর গত ১১ বছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় আর কোনো পরিবর্তন আসেনি, যদিও এ সময়ে দেশের মুদ্রাস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক দশকের বেশি সময়ে মূল্যস্ফীতি ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যার ফলে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।
নিম্নস্তরের কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর দাবি
হাসনাত আব্দুল্লাহ বিশেষভাবে ১ম থেকে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হবে কি না এবং সরকারের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ কী।
সরকারি চাকরিজীবীদের সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি হচ্ছে, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নতুন পে-স্কেলের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে আসছেন।
প্রতিমন্ত্রীর জবাব
জবাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল বারী সরাসরি বেতন বৃদ্ধির সময়সীমা বা হার সম্পর্কে কিছু জানাননি। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে একটি পে কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এ বিষয়ে পৃথক নোটিশ দিলে বিস্তারিত তথ্য জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। তবে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের সম্ভাব্য সময় বা সুপারিশের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।
জনগুরুত্ব ও প্রভাব
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে নিয়মিত বেতন কাঠামো পর্যালোচনা জরুরি। নতুন পে-স্কেল চালু হলে তা শুধু সরকারি কর্মচারীদের নয়, সামগ্রিক ভোগব্যয় ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন সরকারি কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট মহলের নজর থাকবে পে কমিশনের সুপারিশ এবং সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
Source: Based on reporting from Amar Desh Online and parliamentary proceedings.
