ইরান যুদ্ধ যেভাবে আমিরাতের লিবেরাল মুখোশ খুলে দিয়েছে

দুবাই হামলা: কেন নেই ভিডিও?

দুবাই বন্দরে আগুন, কিন্তু নেই ভিডিও—কারণ কী?

বিশেষ প্রতিবেদন | মধ্যপ্রাচ্য সংকট

সম্প্রতি একটি ইরানি ড্রোন দুবাই বন্দরে কুয়েতের তেলবাহী জাহাজ ‘আল সালমি’-তে আগুন ধরিয়ে দেয়। জাহাজটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। খবরটি দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়—এত বড় ঘটনার কোনো ভিডিও বা স্পষ্ট ছবি প্রায় কোথাও পাওয়া যায়নি। শুধু দূর থেকে তোলা একটি ছবিতে পানির উপর ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।

ভিডিও নেই কেন?

আজকের যুগে যেকোনো হামলার ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু দুবাইয়ে ঘটনার ক্ষেত্রে তা হয়নি। এর মূল কারণ—সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কঠোর তথ্য নিয়ন্ত্রণ।

“যে কেউ হামলার ছবি বা ভিডিও শেয়ার করলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।”

কঠোর সাইবার আইন

দেশটির সাইবার অপরাধ আইনে ‘গুজব, মিথ্যা তথ্য বা উত্তেজনামূলক কিছু প্রচার’ করলে দুই বছরের জেল, দেশ থেকে বহিষ্কার এবং ২০ হাজার থেকে ২ লাখ দিরহাম জরিমানার বিধান রয়েছে।

এমনকি ব্যক্তিগত বার্তায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের ছবি পাঠানোর দায়েও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটি প্রাইভেট গ্রুপে তথ্য শেয়ার করায় ২১ জনকে আটক করা হয়।

মানুষের ওপর নজরদারি

‘ডিটেইনড ইন দুবাই’ সংস্থার প্রধান রাধা স্টার্লিং জানান, নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় মানুষকে থামিয়ে ফোন তল্লাশি করছে, এমনকি বাড়িতেও গিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

“ফিলিপিনো গৃহকর্মী থেকে কোটিপতি—কেউই এর বাইরে নয়।” — রাধা স্টার্লিং

সাংবাদিকদের ওপর চাপ

সাংবাদিকদের ওপরও রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’-এর সারা কুদাহ জানান, সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কিছু প্রকাশ করতে পারছেন না।

ভাবমূর্তি বনাম বাস্তবতা

দুবাই নিজেকে ‘বিশ্বের নিরাপদতম শহর’ হিসেবে তুলে ধরে। কিন্তু চলমান যুদ্ধে সেই ভাবমূর্তি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে প্রায় ১,৯৭৭টি ড্রোন, ১৯টি ক্রুজ মিসাইল এবং ৪৩৩টি ব্যালিস্টিক মিসাইল আঘাত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিদেশিদের উদ্বেগ

অনেক বিদেশি নাগরিক ইতোমধ্যে দুবাই ছেড়ে চলে গেছেন। স্কুল-কলেজ অনলাইনে চলছে এবং বিমানবন্দর আংশিক সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।

“নিরাপত্তা কমে গেলে মানুষ এটা মেনে নেবে না।” — এক ব্রিটিশ প্রবাসী

বিশ্লেষকদের মতামত

বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত সেন্সরশিপ দীর্ঘমেয়াদে দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে পারে। বরং স্বচ্ছতা ও বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরাই বেশি কার্যকর।

“সেন্সরশিপ কোনো সমাধান নয়—এটি বরং বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে।” — সারা কুদাহ
Next News Previous News