প্রতি শনিবার অভিযান চালাতে জনপ্রতিনিধিদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা: নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া মোকাবেলায় আগাম ব্যবস্থা নিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ উদ্যোগে সুফল আসবে যদি এটি শুধুমাত্র লোক দেখানো না হয়।

গত কয়েক বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের শেষ ছয় মাসে এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এই পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন। এবার প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন এবং ১৪ মার্চ থেকে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালু হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান, প্রতি শনিবার এলাকার নিজ নিজ বসতবাড়ি ও আশেপাশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করুন। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চললে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া থেকে জনগণকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির মূল নীতি হলো প্রতিরোধই চিকিৎসার চেয়ে উত্তম। কোথাও ময়লা পানি জমতে দেবেন না। নিজেকে ও অপরকে রক্ষা করুন।”

বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ইতিবাচক। পরিচ্ছন্নতা অভিযান মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। ড্রেন, ডোবা ও নর্দমা পরিষ্কার করে লার্ভা ধ্বংস করতে হবে। সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।”

স্থানীয় উদ্যোগ

বিএনপির সংসদ সদস্যরা নিজেদের এলাকায় সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল ১৩৫টি কমিটি গঠন করেছেন, যাতে প্রতি শনিবার ডোবা ও নর্দমা পরিষ্কার করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: রাসেল রহমান জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ১০টায় ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম যাত্রাবাড়ির ধলপুর যান্ত্রিক ওয়ার্কশপে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্বল্পমেয়াদী কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন এবং যান-যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করবেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও ইতিহাস

২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী ডেঙ্গুর প্রকোপ বছরে বছরে ভিন্নভাবে দেখা গেছে। ২০১৯ সালে ১,০১,৩৭৪ জন আক্রান্ত, ১৬৪ জন মৃত; ২০২১ সালে ২৮,৪২৯ জন আক্রান্ত, ১০৫ জন মৃত; ২০২৩ সালে ৩,২১,১৭৯ জন আক্রান্ত, ১,৭০৫ জন মৃত। ২০২৫ সালে ১,০২,৮৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি, ৪১৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, “প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা সরকারি রিপোর্টের থেকে তিনগুণ বা তারও বেশি হতে পারে।”

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৩:০২

Next News Previous News