আজও খোঁজ মেলেনি ৬টি পারমাণবিক বোমার, উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের নিখোঁজ ৬ পারমাণবিক ওয়ারহেড নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ইসরাইল ও মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হারিয়ে যাওয়া ৬টি পরমাণু ওয়ারহেড নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নিখোঁজ এসব পরমাণু অস্ত্র যদি কোনোভাবে শত্রু দেশের হাতে পড়ে, তবে তা ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

১৯৫৮ সালের টাইবি দ্বীপের ঘটনা

এই ধরনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনার একটি ঘটে ১৯৫৮ সালে। সে বছর যুক্তরাষ্ট্রের টাইবি দ্বীপের কাছে আকাশে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ হয়। একটি বি-৪৭ স্ট্রাটোজেট বোমারু বিমান তখন একটি সম্পূর্ণ সশস্ত্র মার্ক-১৫ পারমাণবিক বোমা বহন করছিল।

সংঘর্ষের পর বিমানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাইলট আশঙ্কা করেন যে বোমাটি বিস্ফোরিত হতে পারে। তাই তিনি জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়ে জর্জিয়ার উপকূলের কাছে ওয়াসাউ সাউন্ডের পানিতে বোমাটি ফেলে দেন।

প্রায় ৭ হাজার ৬০০ পাউন্ড ওজনের এই মার্ক-১৫ হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফোরণ ক্ষমতা ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৮ মেগাটন। তুলনামূলকভাবে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাগাসাকিতে ব্যবহৃত ‘ফ্যাট ম্যান’ পারমাণবিক বোমার চেয়ে প্রায় ১৯০ গুণ বেশি শক্তিশালী ছিল।

আজও উদ্ধার হয়নি বোমাটি

দুর্ঘটনার পর বহুবার অনুসন্ধান চালানো হলেও ওই পারমাণবিক বোমাটি আজ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফলে এটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হারিয়ে যাওয়া পারমাণবিক অস্ত্রগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রথমদিকে মার্কিন বিমানবাহিনী দাবি করেছিল, উড্ডয়নের আগে বোমাটির প্লুটোনিয়াম ওয়ারহেড সরিয়ে ফেলা হয়েছিল এবং তার পরিবর্তে সিসার বিকল্প বসানো হয়েছিল।

তবে ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত কিছু নথিতে জানা যায়, ১৯৬৬ সালের কংগ্রেসনাল সাক্ষ্য অনুযায়ী টাইবি মার্ক-১৫ আসলে একটি অক্ষত পারমাণবিক অস্ত্র ছিল।

আরেকটি নিখোঁজ বোমা

১৯৬৬ সালেও আরেকটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে। দুটি মার্কিন সামরিক বিমানের সংঘর্ষের পর ভূমধ্যসাগরে একটি বি-২৬ থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা হারিয়ে যায়, যার ওয়ারহেড এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে শঙ্কা

এদিকে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার কারণে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, দেশটি চাইলে ভবিষ্যতে আবারও এই সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ্রি লুইস বলেন, যদি এই হামলা ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে সফল না হয়, তবে দেশটির হাজার হাজার বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী আবারও পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করতে সক্ষম হবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিটি বহু পুরোনো এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ ইরান হয়তো উত্তর কোরিয়ার মতো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে—যেখানে তারা মনে করতে পারে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ এই বিশ্বে পারমাণবিক শক্তিধর হওয়াই নিরাপদ।

Next Post Previous Post