সংবিধান সংস্কার পরিষদের নোটিশ নিয়ে সংসদে বিতর্ক

সংবিধান সংস্কার পরিষদ, সংসদে বিতর্ক এবং মুলতবি প্রস্তাব—এই তিনটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তুমুল আলোচনা ও মতপার্থক্য দেখা গেছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের নোটিশ নিয়ে আলোচনা দাবি করা হলে সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।

রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে নির্ধারিত কার্যসূচি স্থগিত রেখে বিষয়টি আলোচনার দাবি জানান। তবে সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আপত্তি তোলেন সরকারি দলের সদস্যরা।

মুলতবি প্রস্তাব ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত

বিরোধীদলীয় নেতা জানান, স্পিকারের পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে নোটিশ উত্থাপন করেছেন। তার দাবি, বিষয়টি জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাৎক্ষণিক আলোচনা প্রয়োজন।

অন্যদিকে সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, সংসদের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্ব ও ৭১ বিধির কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই এ ধরনের প্রস্তাব আলোচনা করা হয়ে থাকে। তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে নিয়ম অনুসরণ করার আহ্বান জানান।

বিধি ও প্রক্রিয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান

এসময় বিরোধীদলীয় নেতা যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ৬৪ বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আগেই এমন প্রস্তাব উত্থাপন করা সম্ভব। তিনি এটিকে নিজের সাংসদ হিসেবে অধিকার ও দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।

এ নিয়ে সংসদে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দিতে চাইলে বিরোধী সদস্যরা আপত্তি জানান। পরে ডেপুটি স্পিকারের অনুমতিতে তিনি বলেন, সংসদের বিধি ও রীতি মেনেই আলোচনা হওয়া উচিত এবং স্পিকারই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

আলোচনার সময় নির্ধারণে সমঝোতা

পরবর্তীতে উভয় পক্ষের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, নোটিশটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ৭১ বিধির কার্যক্রম শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এ ধরনের ইস্যু এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক তাৎপর্য ও বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংস্কার প্রশ্নটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে সংসদে উন্মুক্ত আলোচনা হলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে পারে।

তবে একই সঙ্গে সংসদীয় বিধি ও প্রথা মেনে চলা নিয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল থাকে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

স্পিকারের আশ্বাস অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় বা পরবর্তী কার্যদিবসে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের নোটিশটি আলোচনায় আসতে পারে। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Source: Based on reporting from Amar Desh

Next News Previous News