যানজট নিরসনে বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী যানজট সমস্যা নিরসনে নতুন ও কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে স্কুল শুরু ও ছুটির সময় সড়কে যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়, তা কমাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দ্রুত একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব সাংবাদিকদের জানান, রাজধানীর স্কুলঘিরে যানজট এখন নগরবাসীর অন্যতম বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্কুল সময়ে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপই বড় কারণ
বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে, রাজধানীর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের তুলনায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, কোনো কোনো স্কুলে মাত্র ১৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে প্রায় ১০০টি ব্যক্তিগত গাড়ি স্কুলের সামনে ভিড় করছে।
এর ফলে স্কুলের আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে, যা শুধু অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নয়, অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীদেরও চরম দুর্ভোগে ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একই সময়ে বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি একই এলাকায় প্রবেশ করায় সড়কের সক্ষমতা দ্রুত অতিক্রম করে যাচ্ছে।
বিকল্প পরিবহন ও সময় ব্যবস্থাপনায় জোর
প্রধানমন্ত্রী প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে নতুন সমাধান খুঁজতে বলেছেন। এর মধ্যে স্কুল বাস ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, নির্দিষ্ট পিক-আপ ও ড্রপ-অফ জোন, ভিন্ন সময়ে ক্লাস শুরু, কারপুলিং এবং অভিভাবকদের জন্য সমন্বিত পরিবহন নীতির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, ঢাকায় স্কুলভিত্তিক সমন্বিত পরিবহন নীতি চালু করা গেলে সকাল ও দুপুরের পিক আওয়ারে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বিশেষ করে বড় বেসরকারি স্কুলগুলোতে বাধ্যতামূলক বাস সার্ভিস চালুর প্রস্তাবও আলোচনায় আসতে পারে।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোই লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সময়মতো যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমানো। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে একটি বিস্তারিত প্রস্তাবনা তৈরি করে দ্রুত উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।
নগরবাসীর জন্য এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ঢাকার যানজট অর্থনৈতিক ক্ষতি, সময় অপচয় এবং মানসিক চাপ—সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।
অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বৈঠক
একই দিনে প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি নৌবাহিনী প্রধানও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সামগ্রিকভাবে, রাজধানীর যানজট সমস্যায় সরকার এখন আরও কাঠামোগত ও নীতিনির্ভর সমাধানের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সিদ্ধান্ত এলে তা ঢাকার সড়ক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
Source: Based on reporting from Amar Desh Online and official briefing
