ঈদের আগেই খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন: পানিসম্পদ মন্ত্রী

দেশব্যাপী নদী-নালা ও খাল পুনরুদ্ধার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বড় পরিসরে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রস্তুতি সভায় জানানো হয়েছে, আসন্ন ঈদের আগেই এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার খাল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর থেকে উদ্বোধনের পরিকল্পনা

সভায় জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার বড়রামপুর এলাকার সাহাপাড়া খাল থেকে শুরু করা হতে পারে। একই সময় দেশের ৬৩ জেলায় মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা স্থানীয়ভাবে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা খাল ও জলাধারগুলো পুনরুদ্ধার করা হবে। এতে কৃষি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

খাল খননে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

সভায় বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খননের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি খাল খননকে এক ধরনের উন্নয়ন আন্দোলনে পরিণত করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট নিরসনের লক্ষ্য

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক খাল-নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেচ ব্যবস্থায় সংকট তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার নতুন করে খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করবে। খাল খনন কর্মসূচিকে দৃশ্যমান ও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ ও ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় খাল খননের কাজ শুরু করা হবে। এই উদ্যোগ সফল করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, প্রকৌশলী ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

উন্নয়ন পরিকল্পনায় খাল পুনরুদ্ধারের গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের কারণে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা ও পানির সংকট বাড়ছে। খাল ও প্রাকৃতিক জলপথ পুনরুদ্ধার করা গেলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Source: Based on reporting from Amar Desh

Next Post Previous Post

Advertisement