খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬-এর জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ মোট ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করেছে সরকার। তাদের মধ্যে ১৫ জন ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, শিক্ষা, সংস্কৃতি, গবেষণা, সমাজসেবা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে।

খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর সম্মাননা

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হবে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের জন্য তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবছর এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছরও একই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে মনোনয়ন বিবেচনা করে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পুরস্কার পাচ্ছেন

২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের মধ্যে রয়েছেন— বেগম খালেদা জিয়া (মরণোত্তর), মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), অধ্যাপক ড. জহরুল করিম, ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বশির আহমেদ (মরণোত্তর), জোবেরা রহমান (লিনু), ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ মুক্তিযুদ্ধ, কেউ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কেউ চিকিৎসাবিদ্যা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, সমাজসেবা, জনপ্রশাসন, গবেষণা ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। সরকার মনে করছে, তাদের কাজ দেশের জাতীয় জীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

স্বাধীনতা পুরস্কারের ইতিহাস

স্বাধীনতা পুরস্কার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা। ১৯৭৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। সাধারণত প্রতিবছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়ে থাকে।

জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার লক্ষ্যেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধ, সাহিত্য, বিজ্ঞান, সমাজসেবা, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক প্রদান করা হয়।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় বিভিন্ন প্রজন্ম ও ক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে দেশের ইতিহাস ও উন্নয়নে অবদান রাখা ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান দেওয়া যায়।

Source: Based on reporting from Amar Desh

Next Post Previous Post

Advertisement