পদধারী বড় নেতাদের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়তায়ই কাল হয়েছে আমার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মনে করেন, বিএনপির বড় নেতাদের চেয়ে তার জনপ্রিয়তাই মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা তাকে বহিষ্কারের পথে ঠেলে দিয়েছে।
বহিষ্কার প্রসঙ্গে মন্তব্য
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পেছনে মূল কারণ তার জনপ্রিয়তা। অসুস্থতা ও কারাবরণের কারণে যখন খালেদা জিয়া রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছিলেন, তখন তার প্রতি কিছু নেতার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়। যারা তার প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন, তারা হিংসা প্রকাশ করতেন।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, “যেদিন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মারা যান, সেদিনই বিএনপি আমাকে বহিষ্কার করল। সকাল ৬টায় দেশনেত্রী মারা যান, আর বিকাল ৪টায় আমাকে বহিষ্কার করা হলো। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মূলত বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় এই বহিষ্কারাদেশ। অথচ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য তখনও ১০-১৫ দিন সময় বাকি ছিল, সেটুকুও অপেক্ষা করা হয়নি।”
বহিষ্কারের পর মানসিক অবস্থা
রুমিন ফারহানা বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একটি ব্যর্থ দলকে ডিফেন্ড করার যে চাপ ছিল, তা থেকে মুক্তি পেয়েছি। বিভিন্ন নির্বাচনের সময় টকশোতে উপস্থাপকরা মুচকি হেসে প্রশ্ন করতেন—এবার কী করবেন? এই চাপ বহন করা সহজ ছিল না।” তিনি মানসিকভাবে হালকা অনুভব করছেন বলে উল্লেখ করেন।
দলের ভেতরের হেনস্থা
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুধু প্রতিপক্ষ নয়, দলের ভেতরের কিছু নেতাকর্মীও তাকে নানাভাবে হেনস্তা করেছে। অনলাইনে বড় নেতাদের খুশি করতে কিছু লোক তাকে তাচ্ছিল্য ও অপমান করত। আওয়ামী লীগের লোকজনের পাশাপাশি বিএনপির ভেতরের অনলাইন গ্রুপের আক্রমণেরও শিকার হয়েছেন তিনি।
বহিষ্কারের পর প্রতিক্রিয়া
রুমিন ফারহানা বলেন, “এই দল থেকে বের হয়ে আমি যেন সেই চাপ ও হেনস্তা থেকে মুক্তি পেয়েছি।” উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থেকে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মারা যান। ওইদিনই দলের স্থায়ী কমিটির সভায় রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে দলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন।
Source: যুগান্তর
