জুলাই সনদকে অস্বীকার করা নিজেদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করার শামিল : এ টি এম আজহার
জুলাই সনদকে অস্বীকার করা নিজেদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করার শামিল : এ টি এম আজহার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, জুলাই সনদকে অস্বীকার করা মানে জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করা এবং তা নিজেদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করার শামিল।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বকশীবাজার কারা কনভেনশন সেন্টার এ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকার চকবাজার দক্ষিণ থানার উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই সনদের গুরুত্ব তুলে ধরেন
এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, “আজ যারা মন্ত্রী হয়েছেন তারা এই সুযোগ পেতেন না, আমরা যারা সংসদ সদস্য হয়েছি তারাও এই সুযোগ পেতাম না যদি জুলাই আন্দোলন না হতো। জুলাই সনদকে অস্বীকার করা মানে জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করা।”
তিনি বলেন, “জুলাই সনদ ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ফসল। আজ যারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছেন, তাদের মনে রাখা উচিত—জুলাই না হলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও দেশে আসতে পারতেন না।”
সংসদে শপথ নেওয়ার আহ্বান
সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন, কিন্তু শপথ নিতে অনীহা প্রকাশ করে জাতির সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যত্যয় হলে জাতি তা ক্ষমা করবে না।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা জীবন দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন রাষ্ট্র ও সরকারের।”
সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস
এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, দেশের স্বার্থে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। তবে সরকার যদি জনগণের বিপক্ষে যায়, তাহলে জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
রোজার গুরুত্বের কথা স্মরণ
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি রোজার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আল্লাহ শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, পূর্ববর্তী জাতিগোষ্ঠীর জন্যও রোজা ফরজ করেছিলেন। রোজার মাধ্যমে মানুষকে অন্যায় ও অনাচার থেকে ফিরে এসে নৈতিক জীবন গড়তে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য ও চকবাজার দক্ষিণ থানা আমির মাওলানা আনিসুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির শিক্ষাবিদ আব্দুস সবুর ফকির এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
