ইরানকে সমর্থনের চেয়ে জ্বালানি ও কূটনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে চীন

চীন ও ইরান–মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি

ইরানের ওপর হামলায় চীনের অবস্থান

ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বেইজিং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেও নিজেদের স্বার্থকে সর্বাধিক প্রাধান্য দিচ্ছে চীন। বিশ্লেষকদের মতে, তেল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে দীর্ঘদিনের মিত্র ইরানকে সহায়তা করার ঝুঁকি নেবে না চীন।

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সংকট

বেইজিং থেকে এএফপি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, এই জলপথ এখন তাদের 'সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে' এবং তারা পারস্য উপ-সাগরজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।

চীনের কৌশল ও প্রস্তুতি

জ্বালানি তেলের আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীনসহ এশিয়ার কয়েকটি বড় অর্থনীতি এই সরু জলপথের ওপর নির্ভরশীল। চীনের বিশাল কৌশলগত মজুত স্বল্পমেয়াদী সংকট মোকাবিলায় সাহায্য করছে। চীনের নিজস্ব উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল দিয়ে মাত্র ৩০% অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ হয়। বাকি ঘাটতি আমদানিকৃত তেল দিয়ে মেটানো হয়। ২০২৫ সালে চীনের সমুদ্রপথে আমদানি করা তেলের ৫৭% মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসেছে, যার মধ্যে ১৪ লাখ ব্যারেল এসেছে ইরান থেকে।

কেপলার-এর বিশ্লেষক মুয়ু সু উল্লেখ করেছেন, চীনের কাছে বর্তমানে প্রায় ১২০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, যা সমুদ্রপথে আমদানি করা তেলের ১১৫ দিনের চাহিদার সমান। এটি চীনের জন্য বড় সুরক্ষা হিসেবে কাজ করছে।

চীনের কূটনীতি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের কূটনৈতিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে বেইজিং মধ্যস্থতা করেছিল। ইরানকে বেইজিং ও মস্কো নেতৃত্বাধীন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের পূর্ণ সদস্য করা হয়।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন ৩১ মার্চ থেকে অনুষ্ঠিত হবে। চীন ইরানকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখে, সামরিক মিত্র হিসেবে নয়। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়াকে সমর্থন করার মতো পরিস্থিতি ইরানের ক্ষেত্রে নেই।

চীনের অবস্থান

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং সংঘাতকে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর অনিচ্ছার কারণে চীন কেবল শক্ত কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকলে চীন ও ভারত রাশিয়ার তেলকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

Next Post Previous Post

Advertisement