দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই
বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নেই, আতঙ্ক থেকেই পাম্পে লাইন: প্রতিমন্ত্রী
বাংলাদেশে বর্তমানে জ্বালানি তেল কিংবা বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা মূলত জনগণের উদ্বেগ ও ‘প্যানিক বায়িং’-এর কারণে সৃষ্টি হয়েছে, প্রকৃত সরবরাহ সংকটের কারণে নয়।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ
মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয় নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দিনে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও বাস্তবে সরবরাহে কোনো ঘাটতি ছিল না। বরং স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় গত সপ্তাহের কয়েক দিনে দুই থেকে তিন গুণ বেশি জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। তবুও মানুষের উদ্বেগ পুরোপুরি কমানো যায়নি।
‘সংকট নেই, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে’
তিনি আরও বলেন, “আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি—জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে কোনো সংকট ছিল না, এখনও নেই। আল্লাহর রহমতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।”
তার মতে, বাজারে অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হওয়ার পেছনে বড় কারণ ছিল আতঙ্ক ও গুজব। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি কিনতে গিয়ে পাম্পে ভিড় বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব
প্রতিমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যে সংকট চলছে, তা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়তে পারে। তবে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে সমাধান খুঁজে পাওয়া কঠিন। আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই ধরনের বৈশ্বিক সংকট কাটিয়ে উঠতে হয়।”
জনদুর্ভোগ কমাতে সরকারের উদ্যোগ
প্রতিমন্ত্রী জানান, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা বিবেচনা করে সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং সম্ভাব্য দুর্ভোগ কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো জনগণের ওপর চাপ কমানো এবং প্রয়োজন হলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সঙ্গে বাজারে গুজব বা অযৌক্তিক আতঙ্ক যেন ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
উপসংহার
সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং আতঙ্কের কারণে সৃষ্ট অস্বাভাবিক চাহিদাই পাম্পে দীর্ঘ লাইনের মূল কারণ। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
