ঈদের মিছিল ও তিনদিন ঈদ উৎসব আয়োজন করা হবে : আসিফ মাহমুদ
রাজধানীতে ঈদের মিছিল ও তিনদিনের ঈদ উৎসবের ঘোষণা
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় তিনদিনব্যাপী ঈদ উৎসব এবং ঈদের দিন একটি বর্ণাঢ্য ঈদ মিছিল আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তার মতে, ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনের মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে উৎসবের আনন্দ ও সামাজিক সম্প্রীতি আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরলেন আয়োজকরা
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগে এই অঞ্চলে ঈদের মিছিল ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব। সুলতানি আমল থেকে শুরু করে মোগল সাম্রাজ্য পর্যন্ত ঈদের দিন শহরের পথে পথে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হতো। হাতি, ঘোড়া, বাদ্যযন্ত্র এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্রের উপস্থিতিতে মিছিলটি হয়ে উঠত নাগরিক জীবনের অন্যতম আনন্দঘন অনুষ্ঠান।
তিনি বলেন, উপনিবেশিক শাসন এবং পরবর্তী সময়ের সামাজিক পরিবর্তনের ফলে এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাগরিক উদ্যোগে আবারও এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঈদের দিন রাজধানীতে বর্ণাঢ্য মিছিল
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ঈদের দিন সকাল ১০টায় জাতীয় ঈদগাহ প্রাঙ্গণের সামনে থেকে ঈদের মিছিল শুরু হবে। মিছিলটি রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অতিক্রম করে দোয়েল চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা অতিক্রম করে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হবে।
আয়োজকদের মতে, রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে ছোট ছোট শোভাযাত্রা বা ‘ঝটিকা মিছিল’ অংশগ্রহণ করবে। এসব মিছিলের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও সৃজনশীল আয়োজনকে পুরস্কৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ঈদের আগের দিন সাংস্কৃতিক আয়োজন
ঈদের আগের রাতে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবর এ আয়োজন করা হবে ‘মেহেদী উৎসব’ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে গান, কবিতা আবৃত্তি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে চাঁদ রাত উদযাপন করা হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যে কেউ এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
ঈদের পরদিন ঘুড়ি উৎসব
ঈদের পরদিন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এ আয়োজন করা হবে ঘুড়ি উৎসবের। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি ওড়ানোর সংস্কৃতিকে ঈদের আনন্দের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে এই আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ঈদের মিছিলে বিশেষ ‘কিডস জোন’ রাখা হবে। আয়োজকরা আশা করছেন, নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আয়োজন একটি বড় সামাজিক উৎসবে পরিণত হবে।
আয়োজনের জন্য কমিটি গঠন
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি কেন্দ্রীয় বাস্তবায়ন কমিটি এবং কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। নাগরিক উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব সফল করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ কামনা করেছেন আয়োজকরা।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
