আওয়ামী আমলের হেলমেট বাহিনীই এখন গুপ্ত বাহিনী

রাজশাহী: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলোচিত ‘হেলমেট বাহিনী’ নতুন রূপে ‘গুপ্ত বাহিনী’ হিসেবে সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তার দাবি, এই চক্রই দেশে মব তৈরি করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।

স্বাধীনতা দিবসের সভায় অভিযোগ

শুক্রবার রাজশাহীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মিজানুর রহমান মিনু বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় যেসব গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, তারা এখন নতুনভাবে সংগঠিত হয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছে।

অস্থিতিশীলতা ও মব তৈরির অভিযোগ

তিনি অভিযোগ করেন, এই তথাকথিত ‘গুপ্ত বাহিনী’ পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা তৈরি করছে এবং মব সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার মতে, এ ধরনের কার্যক্রম দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকি হতে পারে।

রাজনৈতিক বার্তা ও দলীয় অবস্থান

বক্তৃতায় তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর তা রক্ষা করাই বড় চ্যালেঞ্জ। বিএনপি সব সময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয় এবং জনগণের সমর্থনই দলের মূল শক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো ব্যক্তিনির্ভর দল নয়; এটি কর্মীদের দল। সংগঠনের শক্তি তৃণমূল থেকেই আসে এবং সেই ভিত্তির ওপরই দল এগিয়ে যায়।

দলীয় কার্যালয় নিয়ে পরিকল্পনা

ভূমিমন্ত্রী আরও জানান, মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা খাস জমি ব্যবহার করে দলীয় কার্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। বরং বৈধ প্রক্রিয়ায় জমি ক্রয় করে স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, ‘হেলমেট বাহিনী’ ও ‘গুপ্ত বাহিনী’ প্রসঙ্গটি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়াতে পারে এবং মাঠ পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

তারা মনে করেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে।

সমাপনী ভাবনা

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় পারস্পরিক অভিযোগের পাশাপাশি কার্যকর তদন্ত ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি। এতে করে জনমনে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News